শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে মামলা

রাজিউর রেহমান | প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৩, ২২:৪৭

ছবি: সংগৃহীত

মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করায় ডেইলি স্টার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের আইনজীবীরা। শনিবার (১০ জুন) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিএসইসি ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তাপসের আইনজীবীরা এ ঘোষণা দেন।

সম্মেলনে আইনজীবী মেজবাহুর রহমান বলেন, গত ৫ জুন ডেইলি স্টারকে আমরা আইনি নোটিশ পাঠাই। এতে আমরা বলেছিলাম, অনলাইন থেকে মেয়র তাপসকে নিয়ে মানহানিকর লেখা রিমুভ করতে হবে। তাছাড়া ডেইলি স্টার কর্তৃপক্ষকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
 
তবে, ডেইলি স্টার অনলাইন থেকে ওই লেখা রিমুভ করেছে ঠিকই। কিন্তু তারা নিঃশর্ত ক্ষমা চাননি। শুধু বলেছেন, লেখার কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ডেইলি স্টার তাদের লেখা ডিফেন্ড করার চেষ্টা করেছেন। শুধু দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। ডেইলি স্টারকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা প্রার্থনা না করলে ১৩ জুনের পর ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করব।
 
মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামসহ তিনজনকে আইনি নোটিশ পাঠান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। গত ৫ জুন পাঠানো এই নোটিশে ডেইলি স্টার কর্তৃপক্ষের কাছে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। অন্য দুইজন হলেন, ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক ও সংশ্লিষ্ট লেখক নাজিবা বাশার। মেয়রের পক্ষে আইনজীবী মেজবাহুর রহমান এ নোটিশ পাঠান।
 
এতে নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে থাকা রিপোর্ট অপসারণ এবং সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
 
মেজবাহুর রহমান বলেন, ডেইলি স্টার পত্রিকা ও অনলাইন ভার্সনে রিপোর্ট বা কলাম লেখেন। কলামের লেখাটা ছিল ‘বাতাস প্রবাহের জন্য গাছ কর্তন’, আরেকটি টাইটেল ছিল যেখানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নামকে বিকৃতি করে লিখেছেন, ‘ধোকা সাউথ টাউন কর্পোরেশন’ পরিবেশবাদীর চেয়ে একধাপ এগিয়ে আছে। শুধু তাই নয়, মেয়র ফজলে নূর তাপসের নামকে বিকৃতি করে লেখা হয়েছে।
 
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সম্পর্কে একটা জঘন্য মন্তব্য করেছেন ‘উত্তরের মেয়র কুৎসিত জিনিস পছন্দ করেন, তারা নরকে পচে মরবে গাছ ও বাতাসের অভাবে। এ ধরনের বক্তব্যগুলো আমাদের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী মানহানির পর্যায়ে পড়ে।
 
এই রিপোর্ট দেখে মেয়র আমাকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তার আলোকে আমরা নোটিশ পাঠিয়েছি। নোটিশে আমরা দুটি জিনিস চেয়েছি, একটি হলো অনলাই ভার্সনে থাকা লেখা অপসারণ এবং একটা বিবৃতি দিতে। পাশাপাশি ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য।



পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top