সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচ বছরের বেশি চাকরি করা ঠিক নয়: প্রধান উপদেষ্টা
স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:১২
সরকারি কর্মকর্তাদের একই পদে পাঁচ বছরের বেশি চাকরি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকলে কর্মকর্তাদের চিন্তাধারা একঘেয়ে হয়ে যায় এবং সৃজনশীলতা নষ্ট হয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “পাঁচ বছরের বেশি চাকরি করলে মানুষের মাইন্ড সেট হয়ে যায়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর পর নতুন করে শুরু করা উচিত। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য পরিবর্তন হলেও মানুষ পুরনো ধ্যান-ধারণা নিয়েই প্রতিষ্ঠানে বসে থাকে।”
সবার জন্য চাকরি নিশ্চিত করার ধারণাকে ভুল উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, “এটি এক ধরনের দাসপ্রথার শামিল। সরকারকে চাকরির নিশ্চয়তা নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার পথ তৈরি করে দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছিল, তেমনি ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করবে। জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে।”
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ইন্টারনেট বন্ধ করার পর যে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেটিই একসময় মহাশক্তিশালী একটি সরকারের পতনের কারণ হয়।”
ডিজিটাল খাতকে বর্তমান সময়ের মূল খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ডিজিটাল খাত থেকেই পরিবর্তন আসবে এবং অন্যান্য সব খাতকে প্রভাবিত করবে।”
নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে মন্তব্য করে ড. ইউনূস বলেন, “সরকার শুধু একটি সিস্টেম তৈরি করে জনগণের হাতে তুলে দেবে। জনগণ নিজেদের মতো করে সেটি ব্যবহার করবে—এটাই তথ্যপ্রযুক্তির শক্তি।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পাহাড়ের তিন জেলায় আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টিতে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। যেখানে শিক্ষক নেই, সেখানে ইন্টারনেটই হতে পারে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।”
জালিয়াতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ জালিয়াতিতে সেরা হয়েছে—যা আমাদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে হলে এই জালিয়াতির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।”
এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ক্রিয়েট হিয়ার, কানেক্ট এভরিহোয়ার’ শিরোনামে ভবিষ্যৎ ডিজিটাল উদ্ভাবন নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। পরে প্রধান উপদেষ্টা প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।