শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে গুলি ছোড়েনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: অন্তর্বর্তী সরকার

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৩

সংগৃহীত

ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরাও নিশ্চিত করেছেন, আহতদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই। এ ঘটনায় জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছে সরকার।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।

পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। তবে এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি বলে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনায় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বরাতে বিবৃতিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তাঁদের কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি।

সরকার পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ সঠিক নয় বলেও জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রেস উইং।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। ইতোমধ্যে বহু বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

সরকার একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে দেশের সকল নাগরিকের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক এবং তা অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top