টাকা না ছাপিয়ে সংকট মোকাবিলা করা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪
প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে এবং বৈশ্বিক সংকট, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা করছে নতুন টাকা ছাপানো ছাড়াই। তিনি বলেন, অতীতের পৃষ্ঠপোষকতামূলক অর্থনীতি দেশের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে, সেখান থেকেই বর্তমান সরকার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
রাজধানীর সচিবালয়ে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানান, আগামী বাজেট হবে আরও গণমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং বৈষম্য হ্রাস—এসব লক্ষ্য অর্জনে বাজেটের আকার বড় হওয়াকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।
অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বাজারে প্রচলিত “২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানো হয়েছে” ধরনের তথ্য সঠিক নয়। বরং সরকার এমন নীতি অনুসরণ করছে যাতে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি না বাড়ে এবং বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতকে রক্ষা করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ শীর্ষ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা। গভর্নর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা কার্যত আর্থিক অনিয়মের ফল।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মমুখী ও ভোকেশনাল শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানান, করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হচ্ছে। অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং ভ্যাট ফাঁকি রোধে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), স্টার্টআপ এবং গ্রামীণ কুটির শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব খাতের উন্নয়ন কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সংস্কৃতি, ক্রীড়া, সিনেমা ও সৃজনশীল অর্থনীতিকেও জাতীয় আয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সব মিলিয়ে, সরকার একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে নীতি পুনর্বিন্যাস করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।