র্যাব ও ডিজিএফআই বিলুপ্তির দাবি সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯:৩৪
র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তুলে সংস্থা দুটির বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
ডিজিএফআইয়ের হাতে সংঘটিত গুম-খুনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এই দাবি করেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে অপর সদস্য হিসেবে ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
সাক্ষ্যে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, “আমি মনে করি, র্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা দরকার। তা সম্ভব না হলে অন্তত র্যাব থেকে সেনাসদস্যদের সেনাবাহিনীতে ফেরত আনা হোক।” একই সঙ্গে তিনি ডিজিএফআই বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে বলেন, “এই সংগঠনটি হত্যার মতো অপসংস্কৃতির জন্ম দেওয়ার পর টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে।”
সাক্ষ্য চলাকালে কাঠগড়ায় বসে মামলার আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান সম্পূর্ণ সাক্ষ্য কাগজে-কলমে লিখে নেন।
ইকবাল করিম ভূঁইয়া আরও জানান, হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে না পারায় তিনি সেনাবাহিনী থেকে ডিজিএফআই ও র্যাবে সেনা কর্মকর্তা সরবরাহ বন্ধ করেছিলেন। তবে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও তিনি সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন।
রোববার তার জবানবন্দির মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সোমবার সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর আংশিক জেরা সম্পন্ন হয়। পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে রোববার দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের সময় সেনা সদস্যদের ধীরে ধীরে ‘ডিহিউম্যানাইজ’ করা হয়, যাতে তারা মানুষকে মানুষ হিসেবে নয়, বরং ‘টার্গেট’ হিসেবে দেখতে শেখে। ফায়ারিং রেঞ্জে মানুষ আকৃতির টার্গেটে গুলি চালিয়ে মানুষের প্রতি গুলি করার মনস্তাত্ত্বিক বাধা দূর করা হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সেনাবাহিনীকে কখনোই বেসামরিক পুলিশের সঙ্গে মেশানো উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে র্যাব গঠন ছিল একটি মারাত্মক ও ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। সেনাসদস্যদের যে ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তা র্যাবের দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত ছিল না। তিনি বলেন, ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে বেশ কয়েকটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। র্যাব গঠনের আগেও ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর সময় বহু হত্যাকাণ্ড ঘটে।
উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়। পরে ওই অভিযানে সংঘটিত কর্মকাণ্ডকে দায়মুক্তি দিতে ২০০৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩’ প্রণয়ন করা হয়। এক যুগ পর এক রিট মামলার রায়ে হাইকোর্ট ওই আইনকে সংবিধানবিরোধী ও বাতিল ঘোষণা করে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।