মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি, বাংলাদেশি পণ্যে মোট শুল্ক ৩৪ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:২১

সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক বিষয়ে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক অংশীদারের সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাসের আলোচনার অচলাবস্থার অবসান হলো। নতুন চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে পারস্পরিক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ শতাংশ, যা আগে ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট শুল্কহার দাঁড়াবে ৩৪ শতাংশ।

স্থানীয় সময় সোমবার রাতে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। এর আগে একই দিন বিকেলে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছিলেন, রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।

বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার। এর আগে সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় চুক্তিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। উভয় দেশের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির পর চুক্তিটি কার্যকর হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের আলোচক দলকে তাদের ‘অসাধারণ প্রচেষ্টার’ জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।

চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকার করেছে, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যে—যেগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু (ম্যান-মেড ফাইবার) ব্যবহার করা হবে—সেগুলোর ক্ষেত্রে শূন্য পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা দিতে একটি পৃথক প্রক্রিয়া চালু করা হবে।

বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্বদানকারী বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক একটি ঐতিহাসিক নতুন স্তরে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, এতে উভয় দেশের জন্যই একে অপরের বাজারে বাড়তি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি পোশাকপণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেশের পোশাক খাতে নতুন গতি আনবে।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে আগে ঘোষিত ৩৭ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে প্রথমে ২০ শতাংশ এবং সর্বশেষ সোমবার রাতে তা আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়, যা ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও শুল্ক চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্য ঘাটতির কারণে এসব শুল্ক আরোপ করা হলেও তা কমাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়াবিন তেল, বোয়িং উড়োজাহাজ, জ্বালানি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতনির্ভর।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top