দীপু দাসের পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণসহ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:২৭
ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবক দীপু চন্দ্র দাস (দীপু দাস)-কে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তার পরিবারকে ঘর নির্মাণসহ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
গত ১৮ ডিসেম্বর কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে গণপিটুনির মাধ্যমে দীপু দাসকে গাছে ঝুলিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি সে সময় গণমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে গত ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে নিহত দীপু দাসের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে গভীর সহমর্মিতা জানান।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দীপু দাস পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার পরিবারের বসবাসের জন্য একটি পাকাঘর নির্মাণসহ সার্বিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এ সহায়তা তারাকান্দা উপজেলার ইউএনও-এর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে।
পরিকল্পনার আওতায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিবারটির চাহিদা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। পাশাপাশি নগদ আর্থিক সহায়তা হিসেবে নিহত দীপু দাসের পিতা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে। এছাড়া তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হবে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার বলেন, “দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো অজুহাত নেই এবং আমাদের সমাজে এর কোনো স্থান নেই। তার পরিবারকে সহায়তার জন্য সরকারের এই উদ্যোগ একটি জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র অবশ্যই সুবিচার নিশ্চিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে যেভাবে দীপু দাসকে হত্যা করা হয়েছে, তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। ন্যায়বিচারই কেবল এই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।”
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “আমরা একটি রাষ্ট্র ও সমাজ হিসেবে সব ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করি। তবে কোনো অবস্থাতেই কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।”
এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ১২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, এই হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের সবাইকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।