ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩২

সংগৃহীত

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

সকাল ১০টার পর রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুমোদনসংক্রান্ত গণভোটে ভোট দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত থাকায় ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৮১ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ প্রার্থী দিয়েছে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন প্রার্থী দিয়েছে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে। জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন প্রার্থী দিয়েছে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে। জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন প্রার্থী দিয়েছে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইসি নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।

সারা দেশে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৬৫৯টি। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ বুথ প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারী বুথ প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে ঢাকা বিভাগে। গাজীপুর-২ আসনকে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কেন্দ্রের সংখ্যার দিক থেকে।

ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য ৮ লাখের বেশি কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।

ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হয়েছে—একটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীর জন্য এবং অন্যটি সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত দেওয়ার জন্য।

নির্বাচনী নিরাপত্তায় মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ জন সদস্য রয়েছে। পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উপকূলীয় ১৭টি আসনের ২৪টি উপজেলায় এবং দুটি সিটি করপোরেশনে নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনী অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারিক হাকিমরা দ্রুত সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ইসি সচিবালয়ে পাঠাবেন।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top