শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

আজ সুন্দরবন দিবস

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪:১২

ছবি: সংগৃহীত

সারা বিশ্বে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হলেও উপকূলীয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ এ দিনটি পালন করেন ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ। প্রতি বছরের মতো এবারও নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য সুন্দরবনের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে ১৯৯২ সালে বনটি রামসার সাইট হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূল রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল হিসেবে সুন্দরবনের গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশেষ করে বিরল প্রজাতির রয়েল বেঙ্গল টাইগার-এর প্রধান আবাসভূমি এই বন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এখানে ৫২৮ প্রজাতির উদ্ভিদ ও ৫০৫ প্রজাতির বন্য প্রাণীর বসবাস রয়েছে; যার মধ্যে ৪৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৮৭ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৪ প্রজাতির উভচর ও ৩৫৫ প্রজাতির পাখি রয়েছে।

তবে সুন্দরবন বর্তমানে নানা সংকটে রয়েছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন্য প্রাণী শিকার, গাছ পাচার, বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং প্লাস্টিক দূষণ বনের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। প্রকৃতি ও মানুষের আগ্রাসনে বনের পরিবেশ বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-এর উদ্যোগে প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলন থেকেই দিনটিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবিকা, পরিবেশ ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই প্রাকৃতিক এই বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদার করা জরুরি।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top