বৃহঃস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

দলীয় প্রভাব নয়, আইনের শাসনই হবে শেষ কথা: প্রধানমন্ত্রী

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৬

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভাষণে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে গঠিত নতুন সরকার একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দলীয় প্রভাব নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।

হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনে সরকার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—দলমত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী সকল নাগরিকের জন্য দেশ সমানভাবে নিরাপদ হবে। একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভাষণে তিনি বলেন, বিগত সময়ের দুর্নীতি ও দুঃশাসনে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

পবিত্র মাহে রমাদান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমাদান আত্মশুদ্ধির মাস। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ মাসকে অতিমুনাফার সুযোগ হিসেবে না দেখে পবিত্রতার মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সরকার সব ধরনের অনিয়ম ও ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়—সব শ্রেণির ব্যবসায়ীর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের পরামর্শ ও অভিযোগ গ্রহণে সরকার প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন।

রমাদান মাসে ইফতার, তারাবীহ ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অপচয় রোধ ও কৃচ্ছতা সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপিরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি বা প্লট সুবিধা গ্রহণ করবেন না।

রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি। সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু খাতের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, সহজলভ্য ও নিরাপদ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে শহরকেন্দ্রিক চাপ কমবে এবং পরিবেশের উন্নতি ঘটবে।

দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে তরুণদের দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি- সবার অধিকার সমান। ‘দল যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতিতেই সরকার পরিচালিত হবে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top