অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫১
অমর একুশে বইমেলাকে আগামীতে আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজনের সম্ভাবনা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা একাডেমির সৃজনশীল কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন অমর একুশে বইমেলা। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে এটিকে “অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা” হিসেবে আয়োজনের সুযোগ আছে কি না, তা ভেবে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিক বইমেলা হলে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহুভাষা ও বহুসংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়বে।
তিনি বলেন, বর্তমান ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এর যুগে মাতৃভাষার পাশাপাশি একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এজন্য জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আমরা প্রতিবছর একুশে উদযাপন করি। এখন এ দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করেই বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা।
বইমেলা হোক প্রাণের মিলনমেলা
তারেক রহমান বলেন, অমর একুশে বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয়, এটি শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বইমেলাকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সঙ্গীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে ভূমিকা রাখছে। বইমেলা হয়ে উঠুক সবার মিলনমেলা ও প্রাণের মেলা—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সারাদেশে বইমেলা আয়োজনের প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলাকে শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজন করা যেতে পারে। প্রকাশকদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তা দেওয়া হবে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
তরুণদের মেধা বিকাশে উদ্যোগ
সরকারপ্রধান বলেন, জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমি তরুণদের জন্য গবেষণাবৃত্তি, লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করছে। বাংলা সাহিত্যকে ইংরেজিসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনুবাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
“সবার আগে বাংলাদেশ”—এ স্লোগান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য একটি মানবিক, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
গবেষণাধর্মী বই প্রকাশে গুরুত্বারোপ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বইমেলা হয়, তবে অমর একুশে বইমেলা মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। মেলার পরিধি বাড়লেও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এক জার্মান দার্শনিকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “বই ছাড়া ঘর, আত্মা ছাড়া দেহের মতো।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, গবেষণা বলছে নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করে, স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায় এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কিছু ক্ষেত্রে কমাতে সহায়ক হতে পারে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।