হামের উপসর্গে বাড়ছে ঝুঁকি, এক দিনে ৪ শিশুর মৃত্যু
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৩
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। একদিনেই চার শিশুর মৃত্যু এবং নতুন করে ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৬৮৫ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ২৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে মারা যাওয়া চার শিশুর ক্ষেত্রে সরাসরি হামের কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়—যদিও তাদের শরীরে হামের লক্ষণ ছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৩,৭০৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ৫৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ করে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে গেছে। এমনকি টিকা নেওয়া শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানান, গত কয়েক বছরে টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রায় ৬০০ কোটি টাকার টিকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা টিকা নিতে পারবে, যেখানে আগে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সীরা টিকা পেত।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাম নামে পরিচিত এবং এটি মিজলস ভাইরাস দ্বারা ছড়ায়। রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক—একজন আক্রান্ত শিশু থেকে ১৬–১৭ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, হামে সরাসরি মৃত্যু না হলেও এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিষ্কজনিত জটিলতার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন এবং কী করবেন?
হামের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
- জ্বর
- কাশি, হাঁচি, গলাব্যথা
- শরীরে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বরের সঙ্গে শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হতে হবে।
যেহেতু এটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া এবং জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।