সংসদের সরঞ্জাম কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ প্রমাণ মেলেনি: তদন্ত কমিটি
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৩
জাতীয় সংসদের সরঞ্জাম কেনাকাটায় ওঠা ‘হরিলুট’ অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। সংশ্লিষ্ট একটি সংবাদ প্রকাশের পর গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আলোচিত ক্রয় প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়ম বা অপচয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি স্পিকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে সংসদ ভবনের টানেলে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তদন্তের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদে তিনটি ক্যামেরা লেন্সের মূল্য ৩৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত মূল্য ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ টাকা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ‘মুদ্রণজনিত ভুল’-এর কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তে আরও জানা যায়, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এখনো কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি এবং সরবরাহকৃত পণ্যে নির্ধারিত ব্র্যান্ড ও লোগো সঠিকভাবে বিদ্যমান রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারদর, কর ও ভ্যাটসহ যুক্তিসঙ্গত মুনাফা বিবেচনায় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে কার্যাদেশে ক্যামেরার উৎপত্তিস্থল জাপান উল্লেখ থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে থাইল্যান্ডে তৈরি পণ্য—এ বিষয়টিকে যথাযথ লিখিত অনুমোদন ছাড়াই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে চিহ্নিত করেছে কমিটি। এটিকে একটি প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সংসদের গণসংযোগ শাখার যন্ত্রপাতি দ্রুত প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনেই এই ক্রয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল।
এর আগে সংসদ সচিবালয়ের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি জনমনে আলোচনার সৃষ্টি করে।
এ প্রেক্ষাপটে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি তাদের তদন্ত সম্পন্ন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।