ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নয়, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩১
বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। আমরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না।” তিনি আরও যোগ করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি-নীতি নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে—এমন একটি রাষ্ট্র গঠনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তারেক রহমান বলেন, “ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা আমাদের নীতি নয়। বাঙালি-অবাঙালি, সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে—এটাই আমাদের অবস্থান।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অবদান রয়েছে। “মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই মিলে এই দেশ স্বাধীন করেছে। তাই এই দেশ সবার,”—বলেন তিনি।
সরকারের রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দর্শনই দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা নিজেদের কখনো সংখ্যালঘু ভাববেন না।”
এ সময় তিনি বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষা তুলে ধরে গৌতম বুদ্ধ-এর পঞ্চশীল নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই নীতিতে অহিংসা, সত্যবাদিতা, চুরি ও মাদক থেকে বিরত থাকার মতো মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা একটি মানবিক সমাজ গঠনে সহায়ক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ানসহ আরও অনেকে।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিরূপ তুলে দেওয়া হয়।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।