জনসংযোগ বিভাগ: আধুনিক প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত শক্তি
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫০
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ও তথ্যনির্ভর সমাজে একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পণ্য বা সেবার মানের ওপর নির্ভর করে না; প্রতিষ্ঠান জনসাধারণ, গণমাধ্যম ও অংশীজনদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক বজায় রাখছে, তার ওপরও নির্ভরশীল। এই সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় মূল ভূমিকা পালন করে জনসংযোগ (পাবলিক রিলেশনস-পি.আর.) বিভাগ।
জনসংযোগ বিভাগের কাজ শুধুই প্রচার নয়; এটি প্রতিষ্ঠানকে জনমত, বিশ্বাসযোগ্যতা ও টেকসই সাফল্যের দিকে গাইড করে। যেকোনও সংকটময় পরিস্থিতি—যেমন অভিযোগ, ভুল তথ্য বা নেতিবাচক প্রচারণা—এর সময় বিভাগটি দ্রুত ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করে, গুজব রোধ করে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখে।
ডিজিটাল যুগে ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইউটিউব ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে সার্বক্ষণিক সচেতন থাকতে হয়। ভুল তথ্য বা অসতর্ক মন্তব্য মুহূর্তেই বড় সংকটে রূপ নিতে পারে। এজন্য আধুনিক জনসংযোগ বিভাগের কাজ এখন আরও তথ্যনির্ভর, কৌশলী ও প্রযুক্তি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
জনসংযোগ বিভাগের মূল কার্যাবলি হলো: গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা: প্রেস বিজ্ঞপ্তি, সংবাদ সম্মেলন ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি গঠন: প্রতিষ্ঠানকে ইতিবাচক ইমেজ প্রদান। সংকট ব্যবস্থাপনা: অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক তথ্য প্রদান। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সুসংহত যোগাযোগ ও নীতিমালা প্রচার। সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম (CSR): শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ। ইভেন্ট ও জনসংযোগ কার্যক্রম: সেমিনার, কর্মশালা ও অন্যান্য সামাজিক আয়োজন বাস্তবায়ন।
রবিউল আলম মুন্না, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, ব্র্যান্ড এন্ড কমিউনিকেশনস ডিপার্টমেন্ট, সাউমুথইস্ট ব্যাংক পিএলসি বলেন, “জনসংযোগ বিভাগ কেবল একটি সহায়ক বিভাগ নয়; এটি একটি কৌশলগত শক্তি। যারা জনসংযোগকে গুরুত্ব দেয়, তারা বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে।”
আজকের আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশে যে প্রতিষ্ঠান জনসংযোগকে কৌশলগত গুরুত্ব দেবে, সেটিই দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য অর্জন করবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।