হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ
ধর্ম ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৩১
আজ ১৬ মার্চ দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর। মুসলমানদের কাছে এটি অত্যন্ত মহিমান্বিত ও বরকতময় একটি রাত। এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও নফল নামাজের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করবেন।
রমজান মাসের শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাত লাইলাতুল কদর হতে পারে। তবে অনেক ইসলামি চিন্তাবিদের মতে, ২৬ রমজানের দিবাগত রাতেই শবেকদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ উপলক্ষে ২৭ রমজান দেশে সরকারি ছুটি পালন করা হয়।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহিমান্বিত রাতেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়। পবিত্র কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি সূরা রয়েছে, যেখানে এই রাতের ফজিলত ও মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। ‘শবেকদর’ শব্দটি ফারসি; ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ মর্যাদা বা সম্মান। আরবি ভাষায় এ রাতকে বলা হয় লাইলাতুল কদর, যার অর্থ সম্মানিত বা মহিমান্বিত রাত।
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারণ করেন এবং বান্দাদের সম্মান বৃদ্ধি করেন। তাই মুসলমানদের কাছে এ রাত অত্যন্ত পুণ্যময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই রাতে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়া করার জন্য উম্মতকে আহ্বান জানিয়েছেন।
পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, শবেকদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। ফলে এই রাতে ইবাদত করলে অন্য সময়ের দীর্ঘ ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এ কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নিজেদের গুনাহ মাফ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় রাতভর ইবাদতে মশগুল থাকবেন।
পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে মুসলিম বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলির জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।
দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আসুন আমরা সবাই এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করি।
শবেকদর উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের মতো এবারও আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার মাগরিবের নামাজের পর পবিত্র শবেকদরের ফজিলত ও তাৎপর্য বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।