বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

হজ পালন সহজ করতে করণীয় ও বর্জনীয়

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৯

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ। এটি কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং বিশ্বব্যাপী সমন্বয়ের একটি বৃহৎ ব্যবস্থাপনা। সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে এবং বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন হয়। সঠিক প্রস্তুতি ও নিয়ম মেনে চললে হজ পালন সহজ, নিরাপদ ও অর্থবহ হয়ে ওঠে।

চলতি বছর ১৮ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে, যা চলবে ২১ মে পর্যন্ত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনে অংশ নিচ্ছেন।

করণীয়

স্বাস্থ্য প্রস্তুতি নিশ্চিত করা
হজে যাওয়ার আগে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা অত্যন্ত জরুরি। গুরুতর হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, ক্যানসার বা ঝুঁকিপূর্ণ রোগে আক্রান্তদের হজে না যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক রাখা
বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদ), ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র সঙ্গে রাখা আবশ্যক। ই-হজ সিস্টেম বা এজেন্সির মাধ্যমে এসব সংগ্রহ করতে হবে।

সময়মতো হজক্যাম্পে উপস্থিতি
ঢাকার যাত্রীদের ফ্লাইটের অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে এবং অন্যান্য জেলার যাত্রীদের একদিন আগে হজক্যাম্পে উপস্থিত থাকতে হবে।

লাগেজ ও ওষুধপত্র প্রস্তুত রাখা
নির্ধারিত ওজন অনুযায়ী লাগেজ গোছাতে হবে। কেবিন ব্যাগে ইহরামের কাপড়, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী রাখা উচিত। দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা পর্যাপ্ত ওষুধ সঙ্গে রাখবেন।

নির্দেশনা মেনে দলগতভাবে ইবাদত করা
হজের প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতা দলবদ্ধভাবে সম্পন্ন করা উচিত। গাইডের নির্দেশনা অনুসরণ করলে পথ হারানো বা সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি কমে।

নুসুক কার্ড ও পরিচয়পত্র বহন করা
সৌদি আরবে অবস্থানকালে সবসময় নুসুক কার্ড ও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা মেনে চলা
সৌদি আরবের আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।


বর্জনীয়

অসুস্থ অবস্থায় হজে যাওয়া থেকে বিরত থাকা
গুরুতর অসুস্থতা থাকলে হজে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যাওয়া উচিত নয়।

নিষিদ্ধ দ্রব্য বহন না করা
নেশাজাতীয় দ্রব্য, তামাক, পচনশীল বা রান্না করা খাবার বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অতিরিক্ত লাগেজ নেওয়া থেকে বিরত থাকা
নির্ধারিত ওজনের বেশি লাগেজ নিলে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।

একাকী চলাফেরা না করা
বিশেষ করে মিনা, আরাফাহ, মুজদালিফা ও জামারায় একা চলাফেরা করলে পথ হারানোর ঝুঁকি থাকে।

আইনবিরোধী বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকা
সৌদি আরবে রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কাজে জড়ালে শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

অর্থ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা না করা
খাবার ও অন্যান্য খরচের জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে রাখতে হবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top