শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা উঠলেও নেই বাংলাদেশ, টিকিট বিক্রিতে ধস—বিপাকে আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৬

ছবি: সংগৃহীত

আজ পর্দা উঠছে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের। প্রথমবারের মতো ২০ দল নিয়ে শুরু হওয়া এই বৈশ্বিক আসরে থাকছে না বাংলাদেশ দল। ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা নাম প্রত্যাহার করায় টুর্নামেন্টে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব। শুধু বাংলাদেশই নয়, লিটন দাসদের অনুপস্থিতির প্রতিবাদে পাকিস্তানও গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে বাংলাদেশ না খেলায় দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট বিক্রিও আপাতত বন্ধ রেখেছে আইসিসি।

ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম জানায়, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলো ঘিরে প্রত্যাশিত আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বকাপ শুরুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম স্কটল্যান্ড ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯৭১টি। একই ভেন্যুতে স্কটল্যান্ড–ইতালি ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩৪৮টি। এমনকি ইংল্যান্ড–স্কটল্যান্ড ম্যাচ নিয়েও দর্শকদের উৎসাহ কম বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, কলকাতার এই তিনটি ম্যাচেই খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল আশা করেছিল, বাংলাদেশ খেললে গ্যালারি পূর্ণ থাকবে। কিন্তু দলটির অনুপস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা ভেঙে পড়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য সানডে গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে আইসিসি। এর জেরেই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডও (এসএলসি) এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে। যেহেতু ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের কথা ছিল, তাই পর্যটন খাত থেকে বাড়তি আয়ের আশা করছিল দেশটি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) পাঠানো এক চিঠিতে এসএলসি ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে পিসিবির এক সূত্র জানায়, তারা সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারবে না।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার চেতন শর্মা মনে করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কোনো দোষ নেই, বিষয়টি পুরোপুরি রাজনৈতিক। নির্বাচন শেষ হলে জনমতের কথা বিবেচনা করে আবার ক্রিকেটে স্বাভাবিকতা ফিরতে পারে।”

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া চেতন শর্মা আরও বলেন, “নির্বাচনের পর অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে। তখন হয়তো বলা হবে, খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা উচিত এবং ম্যাচ হওয়া দরকার।”

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে বিশ্বকাপের শুরুতেই অনিশ্চয়তা ও দর্শকসংকটে পড়েছে ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট এই আসর।

 
 


বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top