শব্দদূষণকারী মানুষের যন্ত্রণায় পাখিদেরও শান্তি নেই
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৭
মানুষের তৈরি শব্দদূষণ বিশ্বজুড়ে পাখিদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, আচরণ ও প্রজননে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রায় চার দশকের গবেষণা পর্যালোচনায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গাড়ি, বিমান, নির্মাণকাজ ও শহরের কোলাহল পাখিদের জন্য ক্রমেই বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।
সম্প্রতি ‘প্রিসিডিংস অব দ্য রয়েল সোসাইটি বি’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ১৯৯০ সালের পর থেকে ১৬০ প্রজাতির পাখি নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা গেছে, শব্দদূষণ পাখিদের যোগাযোগ, খাবার খোঁজা, শিকারি থেকে বাঁচা এবং বাসা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ আচরণে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রজননের সাফল্য আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
পাখিরা বেঁচে থাকার জন্য শব্দের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সঙ্গী আকর্ষণে গান গাওয়া, বিপদের সংকেত দেওয়া কিংবা ছানাদের ক্ষুধার জানান—সবকিছুই শব্দের মাধ্যমে হয়। কিন্তু আশপাশে উচ্চমাত্রার কোলাহল থাকলে পাখিরা নিজেদের সংকেত ঠিকভাবে শুনতে পায় না। এতে মিলন আচরণ ব্যাহত হয়, পুরুষ পাখিরা গান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় এবং মা–বাবা ও ছানার মধ্যে যোগাযোগে সমস্যা দেখা দেয়।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, মাটির কাছাকাছি বাসা বানানো পাখিরা প্রজননের ক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি শহরে বসবাসকারী পাখিদের শরীরে মানসিক চাপের হরমোনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় সংকটের তুলনায় শব্দদূষণের ক্ষতি এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
শব্দদূষণ কমাতে নতুন ধরনের নির্মাণ উপকরণ ও শব্দ-নিয়ন্ত্রণমূলক নকশা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, এখনই সচেতনতা বাড়ানো ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, নচেৎ ভবিষ্যতে পাখিসহ পুরো বাস্তুতন্ত্রের ওপর এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র : এএফপি
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।