৫০ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, শুরু ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশন
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৬
দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর আবারও গভীর মহাকাশে মানুষের যাত্রার নতুন ইতিহাস রচিত হলো। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সফলভাবে শুরু করেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘আর্টেমিস-২’ চন্দ্রাভিযান।
বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে চার নভোচারীকে নিয়ে বিশাল রকেটটি মহাকাশে উড্ডয়ন করে। এ সময় ঐতিহাসিক মুহূর্তটি প্রত্যক্ষ করতে হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। প্রায় ১০ দিনের এ মিশনে তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই মিশনের কমান্ডার জানান, তারা সরাসরি চাঁদের অভিমুখে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং মহাকাশ থেকে অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করছেন।
মিশন শুরুর আগে জ্বালানি সংক্রান্ত কিছু ঝুঁকি থাকলেও সতর্ক প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ গ্যালন জ্বালানি ব্যবহার করে সফলভাবে উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে নাসা।
মহাকাশযানটি প্রথমে পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম পরীক্ষা করবে। এরপর শক্তিশালী ইঞ্জিন বার্নের মাধ্যমে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবে। পুরো যাত্রায় ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্র্যাজেক্টরি অনুসরণ করে চাঁদের অভিকর্ষ শক্তি ব্যবহার করে কম জ্বালানিতে পৃথিবীতে ফিরে আসবে ওরিয়ন ক্যাপসুল।
ফেরার সময় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে মহাকাশযানটি।
নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের জন্য এই মিশনই হতে যাচ্ছে ‘অ্যাপোলো’র আধুনিক সংস্করণ। ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের পুনরায় পদচারণা এবং মঙ্গলগ্রহে অভিযানের পথ তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: আল জাজিরা
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।