বৃহঃস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

খালেদা জিয়ার জেলা হিসেবে ফেনীবাসীর প্রত্যাশা বাড়ছে

মিজানুর রহমান | প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯:৫৫

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার পিতৃভূমি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানার বাড়ি এবং দেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ফেনী। দীর্ঘ সময় অবহেলিত থাকার পর বর্তমান সরকার গঠিত হওয়ার পর জেলার উন্নয়নে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। ফেনীর দক্ষিণ প্রান্তের চরাঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তরের বিলোনিয়া সীমান্ত পর্যন্ত উন্নয়নের এক বিশাল ক্যানভাস এখন জনগণের সামনে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অঞ্চল, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবিতে এখন সোচ্চার ফেনীবাসী।

 

জেলার জনগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, 

জেলার দক্ষিণাঞ্চলে সোনাগাজীতে জেগে ওঠা বিশাল চরাঞ্চলকে ঘিরে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছে জেলাবাসী। সোনাগাজীর চরাঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (EPZ) বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি জোরালো হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ফেনী ও পার্শ্ববর্তী জেলার লাখো বেকারের কর্মসংস্থান হবে, হবে অর্থনীতির চাকা সচল। বঙ্গোপসাগরের কূল ঘেঁষে সোনাগাজীর দক্ষিণে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন করার দাবী উঠেছে । এর ফলে আমদানি-রপ্তানি সহজ হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ফেনী এক নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। ফেনীর উত্তরাঞ্চলের জনপদ পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে মুহুরী ও কহুয়া নদীর বন্যা। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য জোরালো দাবি উঠেছে। বিলোনিয়া থেকে মুহুরী সেচ প্রকল্পের সুইচগেট পর্যন্ত নদীর গভীরতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধি করে উভয় পাশে উঁচু টেকসই বাঁধ নির্মাণ করে এতদঅঞ্চলের মানুষকে বন্যার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ফেনী, মুহুরী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীর মোহনায় দীর্ঘ ১২ কিলোমিটার প্রশস্ততা ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। জেলার বন্যা ও নদী ভাঙনের প্রধান সমস্যা মুছাপুর রেগুলেটর পুনরায় নির্মাণ এবং সোনাগাজী রেগুলেটরের সক্ষমতা বৃদ্ধি অর্থাৎ আরো একটি নতুন রেগুলেটর নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। জেলার জনগনের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং অধুনিকায়ন অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। 

 

এ ছাড়াও ফেনীতে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার দাবি জোরালো হচ্ছে । এটি জেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। ১৯২৯ সালে চালু হওয়া ঐতিহ্যবাহী ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি পুনরায় চালু করা সময়ের দাবি। এটি শুধু পণ্য পরিবহন নয়, বিলোনিয়া স্থল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর প্রবেশদ্বার লালপুলে তীব্র যানজট ও দূর্ঘটনা নিরসনে একটি আধুনিক ওভারপাস নির্মাণের জন্য বহুদিনের জনপ্রত্যাশা রয়েছে। 

 

ফেনীর সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতে, এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কেবল ফেনীর নয়, বরং গোটা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। বর্তমান সরকার যদি এই দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে, তবে ফেনী একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ মডেলে পরিণত হবে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব কালবেলা কে জানান, ফেনীর মানুষ দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত। বিশেষত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়াপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নিজ জেলা হওয়ায় বিগত ফেসিস্ট সরকারের সময় ফেনী নানা ক্ষেত্রে অবহেলিত ছিলো। তাই বর্তমান সরকারের প্রতি জেলাবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশী থাকবে এটি স্বভাবিক। আশা করছি সরকার বিষয়টি সুদৃষ্টিতে দেখবেন।

 

উল্লেখ্য, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ফেনীর ফুলগাজাী উপজেলার শ্রীপুর মজুমদার বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। সে হিসেবে বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নানার বাড়ি ফেনী।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top