চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদে রোজার ইফতার: এক কাতারে ধনী-গরিব, নেই হুল্লোড়
জোবায়ের হোসেন | প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:০১
নানা বয়সী হাজারো রোজাদার। ধনী-গরিব থেকে ছিন্নমূল মানুষ—সবাই এক কাতারে বসে আদবের সঙ্গে ইফতার করছেন। নেই হইচই, হুল্লোড় বা হাঁকডাক।
প্রতিবছরের মতো এবারও প্রথম রোজার ইফতারে এমন দৃশ্য দেখা গেল চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদে।
একদিন আগেই ৮-১০ জন বাবুর্চি ও তাদের সহকারীরা আড়াই থেকে তিন হাজার রোজাদারের ইফতার প্রস্তুতি শুরু করেন। আসরের সময় আগের দিনই ছোলা ভিজিয়ে রাখা হয়। খেসারি, বেগুনির জন্য বেগুন, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আদা ও ধনেপাতা কাটার কাজ শুরু হয় ভোর থেকেই।
এরপর আসরের আজান পর্যন্ত চলে ভাজাপোড়ার কাজ। এর মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যায় থালা থালা ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি ও আলুর চপ।
আসরের পর বড় বড় ড্রামে তৈরি করা হয় রুহ আফজা শরবত। শুরু হয় ইফতার পরিবেশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
কাতারে কাতারে বসে পড়েন রোজাদাররা। সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে যায় প্লাস্টিকের গ্লাস ও ইফতারের থালা। কাতারের বাইরে ৫-১০ জনের জন্য আলাদা থালাও পরিবেশন করা হয়। গোল হয়ে বসে পরম তৃপ্তিতে ইফতার করেন সবাই।
মাসব্যাপী এই ইফতার মাহফিলের প্রথম দিনে অতিথি ছিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী।
মসজিদের খতিবের একান্ত সচিব মো. হাসান মুরাদ জানান, খতিব আওলাদে রাসূল ছাইয়্যেদ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরি আল মাদানির উদ্যোগে ২০০১ সালে মক্কা-মদিনার আদলে ছোট পরিসরে এই ইফতার মাহফিল শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় এখন প্রথম রোজা থেকেই আড়াই-তিন হাজার মুসল্লি এবং ১০ রোজার পর ৪-৫ হাজার মুসল্লি এখানে ইফতার করেন।
তিনি আরও জানান, ইফতার সামগ্রী যারা দান করেন তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। তারা উপকরণ পৌঁছে দেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ তা সংরক্ষণ করে প্রতিদিন ১০ জন বাবুর্চির মাধ্যমে রান্না ও পরিবেশন করে। প্রথম দিনে নয় পদের ইফতার পরিবেশন করা হয়।
মুসল্লিদের পাশাপাশি অনেক নারী ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও তবররুক হিসেবে এই ইফতার নিয়ে যান বলে জানান তিনি।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।