খুলনার ডুমুরিয়া হবে অভিযোগহীন আধুনিক থানা

খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ১৫:১৭

খুলনার ডুমুরিয়া হবে অভিযোগহীন আধুনিক থানা।  ছবি: সংগৃহীত

খুলনার ডুমুরিয়াকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ব্যবস্থায় থানার সেবায় মানুষের কোনো অভিযোগ থাকবে না—এমন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে। জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থানার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন একজন সার্কেল কর্মকর্তা।

ডুমুরিয়া উপজেলার আয়তন প্রায় ৪৫৪ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৯ জন মানুষের বসবাস। উত্তরে ফুলতলা, যশোরের অভয়নগর ও মনিরামপুর, দক্ষিণে বটিয়াঘাটা ও পাইকগাছা, পূর্বে খুলনা নগরীর খানজাহান আলী ও খালিশপুর এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরার তালা ও যশোরের কেশবপুর উপজেলা অবস্থিত। উপজেলার আওতায় রয়েছে ১৪টি ইউনিয়ন।

একসময় ডুমুরিয়া চরমপন্থি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মনোরঞ্জন ঘোষাল ওরফে মৃনাল এবং তার বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব ছিল এ অঞ্চলে। বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি ও দখলদারির ঘটনাও ঘটেছে।

২০২৪ সালের ৬ জুলাই গুটুদিয়া এলাকায় সরাফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবি হত্যাকাণ্ড এলাকায় আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের গাড়ি লুটের ঘটনাও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আসগর লবী এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে সাহস জুগিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ডুমুরিয়া থানাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এখানকার মানুষ সহজেই থানায় অভিযোগ জানাতে পারবে এবং জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশের সহযোগিতা পেতে প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ ইমরান বলেন, জিরো কমপ্লেইন থানা চালু হলে জনগণের অভিযোগ কমে আসবে। জনসেবা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এতে মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়বে।

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় থানার পাশাপাশি চারটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি, একটি অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। তবে জিরো কমপ্লেইন থানার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাননি বলে তিনি জানিয়েছেন।

জেলার সবচেয়ে বড় আয়তনের এই উপজেলায় অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষি ও চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভরশীল।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top