দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ২০ রমজান। ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে খুলনার পোশাকের বাজার। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। আয়ের তুলনায় পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা ভিড় করছেন ফুটপাতের দোকানেও। একই সঙ্গে অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ১৪ রমজানের পর থেকে বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন ও ঈদ বোনাস পাওয়ার পর বাজারে কেনাকাটার চাপ বেড়েছে।
শনিবার নগরীর বিভিন্ন সড়কের মোড়ের ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং সেন্টারগুলো ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্রই ক্রেতাদের ভিড়। তবে পুরুষদের পোশাকের তুলনায় নারীদের পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি। বিশেষ করে থ্রি-পিস, গাউন, লেহেঙ্গা ও বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পোশাকের দোকানে নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
নগরীর আখতার চেম্বার, হাজী মালেক চেম্বার, এশা চেম্বার, পিকচার প্যালেস, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, রব সুপার মার্কেট, শহিদ সোহরাওয়ার্দী বিপণি বিতান, রেলওয়ে বিপণি বিতান, জব্বার মার্কেট, খানজাহান আলী হকার্স মার্কেট ও নিউ মার্কেটসহ বড় ও মাঝারি মার্কেটগুলো ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। অভিজাত মার্কেটের তুলনায় মধ্যম সারির মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানে দাম কম হওয়ায় সেখানে বিক্রি তুলনামূলক বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ডাকবাংলো মোড়ের হাজী মালেক চেম্বারের সামনে ফুটপাতের দোকানি সজীব বলেন, রমজানের প্রথম দশ দিনে তেমন বিক্রি হয়নি। চাকরিজীবীরা বেতন ও বোনাস পাওয়ার পর বিক্রি কিছুটা বাড়ে। তবে সম্প্রতি ডাকবাংলো মোড়ে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর বিক্রি কিছুটা কমে যায়। এখন আবার ধীরে ধীরে বাড়ছে। তার দোকানে ছেলেদের গেঞ্জি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই এলাকায় ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাসিব জানান, প্রথমদিকে বিক্রি কম থাকলেও ১৫ রমজানের পর থেকে বেচাকেনা বাড়তে শুরু করেছে। তার দোকানে শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে।
রেলওয়ে বিপণি বিতানের ব্যবসায়ী মাসুম বলেন, তার দোকানে ছেলেদের পোশাকের চাহিদা বেশি। ৩০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে। গত দুদিন ধরে বিক্রি বেড়েছে এবং সামনে আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
খুলনা শপিং সেন্টারের ঐশিকা ফ্যাশনের মালিক উৎপল দত্ত জানান, এবারের ঈদে সুতি থ্রি-পিস, জর্জেট, অর্গানজা, জিমুচি ও ফারসি গাউনের চাহিদা বেশি। বিশেষ করে তরুণী ও উঠতি বয়সী নারীদের কাছে এসব পোশাক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, সুতি থ্রি-পিস ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা, জর্জেট ও পাকিস্তানি ফারসি গাউন থ্রি-পিস ৫০০০ থেকে ১০ হাজার টাকা, অর্গানজা ৩০০০ থেকে ৭০০০ টাকা, জিমুচি ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা এবং ভারতীয় ফারসি গাউন ৩০০০ থেকে ৭০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই মার্কেটের মারিয়াম এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল হোসেন বলেন, এবারের ঈদের নতুন সংযোজন ফারসি গাউন। পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে তৈরি এসব গাউনের দাম ৩ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এদিকে পিকচার প্যালেস সুপার মার্কেটের কিছু দোকানে থ্রি-পিসের ওপর ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাহান ফেব্রিকসের মালিক মো. দিদারুল আলম জানান, বিভিন্ন ধরনের একপিস, দুইপিস ও থ্রি-পিসের মূল দামের ওপর ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
শাড়ির দোকানগুলোতেও ভিড় দেখা গেছে। জলিল টাওয়ারের চন্দনা শাড়ি হাউসের মালিক উজ্জ্বল কুন্ডু বলেন, বি-প্লাস ছাপা শাড়ি ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং টাঙ্গাইল শাড়ি ৮০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা দ্বীন ইসলাম বলেন, দুপুর থেকে মার্কেটে ঘুরছেন কাপড় কেনার জন্য। তবে এবার পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ তাজুল ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মার্কেটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্টও বাড়ানো হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।