যে ঘরে নতুন বউকে বরণের কথা ছিল, সেখানে এখন লাশ দাফনের প্রস্তুতি
বাগেরহাট প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১৫:০৭
হাতে মেহেদি, পরনে খয়েরি বেনারসি, কানে দুল আর হাতে চুড়ি- সবই ছিল নতুন বউয়ের সাজে। কিন্তু নেই প্রাণের স্পন্দন। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই সেতুর কাছে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নবদম্পতি আবিদুর রহমান সাব্বির ও মারজিয়া আক্তার মিতুসহ দুই পরিবারের মোট ১৪ জনের প্রাণ ঝরে গেছে।
যে মিতু স্বামীর পাশে বসে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন, সেই মিতুর নিথর দেহই উল্টো পথে আবারও ফিরে এসেছে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মিতুর মরদেহ আনা হয় তার গ্রামের বাড়িতে। তার সঙ্গে একই অ্যাম্বুলেন্সে আনা হয় ছোট বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগমের নিথর দেহ।
অন্যদিকে একই রাতে বাগেরহাটের মংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রামে পৌঁছেছে নববর আবিদুর রহমান সাব্বিরের মরদেহ। তার সঙ্গে ফিরেছেন বাবা আব্দুর রাজ্জাক, মা আঞ্জুমানারা, বোন ঐশী, বোনজামাই সামিউল আলম, বড় ভাবি পুতুল এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের নিথর দেহ। নিহতদের মধ্যে রয়েছে শিশু আলিফ, ইরাম ও আব্দুল্লাহ সানিও। দুর্ঘটনায় নিহত মাইক্রোবাসচালক নাঈম শেখের মরদেহও গভীর রাতে তার নিজ এলাকায় পৌঁছেছে।
পরিবারের এতজন সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন সাব্বিরের বড় ভাই আশরাফুল আলম জনি। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যক্তি হওয়ায় আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর মংলা উপজেলা মাঠে নিহত সাব্বিরের পরিবারের সদস্যদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিবারের স্বজনদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বেলা প্রায় ১১টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রাম থেকে মাইক্রোবাসে করে নতুন শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন মিতু। সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা ও নানি আনোয়ারা।
অন্যদিকে খুলনা থেকে বাগেরহাটের দিকে যাচ্ছিল সাব্বিরের পরিবার। মাইক্রোবাসটি মংলার কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও রামপাল উপজেলার বেলাই সেতুর কাছে বৃষ্টির মধ্যে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মংলা থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি কর্মী বহনকারী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি।
ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অধিকাংশ যাত্রী। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও পথিমধ্যে একে একে নিভে যায় সবার প্রাণ। মুহূর্তেই দুই পরিবারের স্বপ্ন পরিণত হয় গভীর শোকে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।