ইরান যুদ্ধ ‘শেষ’: দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ মে ২০২৬, ১৪:২১
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ইতোমধ্যেই ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে দাবি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকেই এই সংঘাতের অবসান ঘটেছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে মার্কিন আইনসভায় সামরিক অভিযানের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা এড়ানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটের শুনানিতে একই অবস্থান তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় বাস্তবে যুদ্ধের অবসান ঘটেছে। এই যুক্তিতে প্রশাসন দাবি করছে, ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালাতে হলে যে অনুমোদন প্রয়োজন, তা আর প্রযোজ্য নয়।
প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আইনের ভাষায় ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া শত্রুতার অবসান ঘটেছে বলে ধরা হচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর আর কোনো সংঘর্ষ হয়নি।
১৯৭৩ সালের আইনে বলা আছে, কোনো দেশে সামরিক অভিযান শুরু হলে ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে আইনসভার অনুমোদন নিতে হবে অথবা অভিযান বন্ধ করতে হবে। শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। তবে প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধবিরতির কারণে সেই সময় গণনা এখন আর কার্যকর নয়।
তবুও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। ইরান এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে নজরদারি ও অবরোধ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থানকে ‘অবৈধ’ ও ‘নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন উভয় দলের একাধিক আইনপ্রণেতা।
রিপাবলিকান দলের সিনেটর সুসান কলিন্স বলেন, আইনসভায় অনুমোদনের বিষয়টি কোনো পরামর্শ নয়, এটি বাধ্যতামূলক আইন। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক অভিযানের স্পষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
অন্যদিকে সিনেটর টিম কেইন বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দেওয়া ব্যাখ্যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
ব্রেনান সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন ইয়ান এব্রাইটও প্রশাসনের যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত আইনে কোথাও বলা নেই যে যুদ্ধবিরতির সময় ৬০ দিনের সীমা স্থগিত থাকবে।
এদিকে সাবেক এক মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রিচার্ড গোল্ডবার্গ প্রশাসনকে নতুন নামে অভিযান চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে আইনগত জটিলতা এড়ানো যায়।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন অভিযানের নাম হতে পারে ‘অপারেশন এপিক প্যাসেজ’, যা পূর্ববর্তী সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখানো হবে।
তার মতে, এটিকে ‘আত্মরক্ষামূলক অভিযান’ হিসেবে উপস্থাপন করলে আইনসভার অনুমোদন ছাড়াই হরমুজ প্রণালিতে সামরিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব হতে পারে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।