শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

জ্বালানি সাশ্রয়ী জেনারেটর উদ্ভাবন, ফেনীর হান্নানের সাফল্যে চমক

মিজানুর রহমান | প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৭

জ্বালানি সাশ্রয়ী জেনারেটর উদ্ভাবন, ফেনীর হান্নানের সাফল্যে চমক। ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে জ্বালানি সাশ্রয়ী জেনারেটর উদ্ভাবন করে আলোচনায় এসেছেন আব্দুল হান্নান নামের এক যুবক। তার উদ্ভাবিত এই জেনারেটর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃক পরীক্ষিত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এতে প্রচলিত জেনারেটরের তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান। তিনি ফেনীর শাহিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে ধুমসাদ্দা বাজারে একটি ফটোকপি ও কম্পিউটার টাইপিংয়ের দোকান চালু করেন।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায় বিঘ্ন ঘটায় বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার চিন্তা থেকেই ২০১০ সাল থেকে গবেষণায় নামেন তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছরের নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে জ্বালানি সাশ্রয়ী জেনারেটর উদ্ভাবনে সফল হন।

বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে ০.৪৮৩ গ্রাম ডিজেল খরচ হয়, সেখানে হান্নানের উদ্ভাবিত জেনারেটরে খরচ হয় মাত্র ০.৩৫৭ গ্রাম। অর্থাৎ এতে প্রায় ২৬ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব।

ইতোমধ্যে তার এই উদ্ভাবন শিল্প মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে এবং পেটেন্ট অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আব্দুল হান্নান জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে তিনি এ বিষয়ে কাজ শুরু করেন। ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গবেষণা চালিয়ে যান। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি এই প্রযুক্তি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

এ বিষয়ে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এই উদ্ভাবন দেশের জন্য গর্বের। এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা গেলে জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আব্দুল হান্নানের এই উদ্ভাবন জাতীয় পর্যায়ে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top