হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী
লালমনিরহাট প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৩ মে ২০২৬, ১৮:৫০
আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে হাওর অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে আগামী তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৩ মে) লালমনিরহাটের বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে ‘বিদ্যানন্দ আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্প ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, হাওর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক ঢলের কারণে লক্ষ লক্ষ হেক্টর আবাদি জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় মন্ত্রণালয় থেকে আগামী তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়কে কৃষকদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেটের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। তালিকাভুক্ত কৃষকদের বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা মাসিক সহায়তা পাবেন। আগামী ৬ মে সুনামগঞ্জে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।
হাওরের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কোথাও কৃষকরা ৬০ শতাংশ আবার কোথাও মাত্র ৪০ শতাংশ ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটার জন্য শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে যাকাতভিত্তিক আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় ১০১টি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে আয়বর্ধক উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৩৩ জনকে দোকানের মালামাল, ২০ জনকে ভ্যান, ১৮ জনকে গরু এবং ৩০ জনকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।
সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। লাকী আক্তার বলেন, মূলধনের অভাবে দোকান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। সহায়তা পেয়ে এখন তিনি স্বাবলম্বী হওয়ার আশা করছেন।
অন্যদিকে জাওভারা বেগম জানান, একটি সেলাই মেশিন না থাকায় তিনি কাজ শুরু করতে পারছিলেন না। এখন এই সহায়তার মাধ্যমে সংসারের অভাব দূর করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, যাকাতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী করাই তাদের লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।