বৃহঃস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

২ লাখ টাকায় কেনা অস্ত্র দিয়ে ওসমান হাদিকে গুলি করে ফয়সাল

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪২

ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি প্রায় দুই লাখ টাকায় কেনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিক্রির পর অস্ত্রটি একাধিক হাত ঘুরে শেষ পর্যন্ত কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সালের কাছে পৌঁছে।

ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, এই পিস্তল দিয়েই হাদিকে গুলি করেছিল ফয়সাল। নরসিংদী থেকে অস্ত্রটি উদ্ধারের পর তদন্তে বেরিয়ে আসে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এ ঘটনায় মাজেদুল হক হেলাল নামে এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুইজন মধ্যস্থতাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি প্রথমে তুরস্ক থেকে আমদানি করে এম আইচ আর্মস কোম্পানি। পরে ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর এটি চকবাজারের ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সে বিক্রি করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে বিক্রি হয়।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাজেদুল হক হেলাল অস্ত্রটি অবৈধভাবে হাতবদল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নামে থাকা অস্ত্র লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এরপরও লাইসেন্স ছাড়াই অস্ত্রটি কেনাবেচা অব্যাহত ছিল।

তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার জানান, নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা পিস্তল ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বুলেট ও কার্তুজ পরীক্ষায় একই অস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অস্ত্রটির সিরিয়াল নম্বরও ফরেনসিক পরীক্ষায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অস্ত্রটি কীভাবে মাজেদুল হক হেলালের কাছ থেকে আসামিদের হাতে পৌঁছায়, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা এই ঘটনা ঘটায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের মামলা করেন। পরে তদন্ত ডিবি পুলিশের হাতে যায়। তদন্ত শেষে ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

তবে অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে বাদী আদালতে নারাজি দাখিল করেন। এরপর আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top