বৃহঃস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

পাকিস্তান অসাধারণ মধ্যস্থতাকারী, ইসলামাবাদেই পরবর্তী বৈঠক: হোয়াইট হাউস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১১

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছে হোয়াইট হাউস। দেশটিকে ‘অসাধারণ’ মধ্যস্থতাকারী উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, পরবর্তী দফার আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই হতে পারে।

পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী, এই আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের বন্দর অবরোধ তুলে না নিলে লোহিত সাগরের বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে তারা।

এরই মধ্যে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বার্তা নিয়ে সেখানে আলোচনা চালাচ্ছে। আগেই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল, সাম্প্রতিক ব্যর্থ আলোচনার পর আবারও ইসলামাবাদে বৈঠক হতে পারে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধান আলোচক ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময়ই আলোচনার নতুন সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। তেহরানে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আদান-প্রদান হওয়া বার্তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, পরবর্তী আলোচনা খুব সম্ভবত ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আলোচনা এগোচ্ছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে তারা আশাবাদী। পাশাপাশি এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানকে যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ করে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ মেটাতে একটি বড় চুক্তির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য একই। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা জরুরি।

এদিকে সম্ভাব্য চুক্তির আশায় বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। শেয়ার সূচক বেড়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

এর পাশাপাশি ইরানের তেল পরিবহন ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একাধিক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, যারা জনগণের ক্ষতির বিনিময়ে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে।

এছাড়া আরও কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অর্থায়ন ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top