বৃহঃস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত: নিজের কিডনি দিয়ে স্ত্রীর জীবন বাঁচালেন স্বামী

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫১

ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরে ভালোবাসা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জসিম উদ্দিন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী মিনারা বেগমের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করে তিনি দেখিয়েছেন সত্যিকারের ভালোবাসা কতটা গভীর হতে পারে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হন ৩২ বছর বয়সী মিনারা বেগম। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, তার দুইটি কিডনিই অকার্যকর হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তার পেটের ভেতরে একটি টিউমারও ধরা পড়ে। হঠাৎ এমন খবরে পরিবারে নেমে আসে চরম হতাশা।

পরবর্তীতে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমারের চিকিৎসা সম্পন্ন হলেও অর্থ সংকটের কারণে কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এরপর ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটতে থাকে। শুরু হয় কিডনি দাতা খোঁজার চেষ্টা।

এক পর্যায়ে মিনারা বেগমের মা কিডনি দিতে এগিয়ে আসেন। তবে পরীক্ষার পর তার হৃদরোগ ধরা পড়ায় চিকিৎসকরা কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেননি। এতে পরিবার আরও দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।

ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে এগিয়ে আসেন মিনারা বেগমের স্বামী জসিম উদ্দিন (৩৬)। কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৫ মার্চ ঢাকার শ্যামলীর একটি কিডনি ও মূত্রতন্ত্র চিকিৎসা কেন্দ্রে সফলভাবে তার কিডনি মিনারার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে মিনারা বেগম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে ঢাকার শ্যামলীতে একটি ভাড়া বাসায় থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের কিছু সময় পর তাদের একমাত্র সন্তান তামিম আল মারুফের জন্ম হয়, বর্তমানে সে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। চাকরির কারণে জসিম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন।

মুঠোফোনে এক সংবাদমাধ্যমকে মিনারা বেগম বলেন, “আমার অসুস্থতার কথা জানার পর থেকেই পরিবারে দুশ্চিন্তা শুরু হয়। প্রথমে আমার মা কিডনি দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরে আমার স্বামী নিজের কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমি অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু তিনি বলেছেন আমরা একসঙ্গে বাঁচব, প্রয়োজনে একসঙ্গেই থাকব। আল্লাহর রহমতে এখন আমরা দুজনেই ভালো আছি।”

অন্যদিকে জসিম উদ্দিন বলেন, স্ত্রীর জীবন বাঁচানোই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। তিনি বলেন, স্ত্রীর কষ্ট দেখে তিনি আর বসে থাকতে পারেননি এবং স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে স্বামীর এই আত্মত্যাগ মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত, যা সমাজে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের উদাহরণ হয়ে থাকবে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top