রেকর্ডের পর বড় ধস: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে তীব্র পতন
বাণিজ্য ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৯
রেকর্ড সাড়ে পাঁচ হাজার ডলারের মাইলফলক ছুঁয়ে ফের বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে বিশ্ববাজারের স্বর্ণের দাম। বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং ডলার শক্তিশালী হওয়ায় এই মূল্যবান ধাতুর দামে বড় ধস নেমেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী প্রধান হিসেবে সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন দেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার প্রাক্কালে ডলার শক্তিশালী হয়ে উঠলে স্বর্ণের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।
এদিন স্বর্ণের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে অল্প সময়ের জন্য প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম ৫.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮১.৫২ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। দিনের এক পর্যায়ে দাম নেমে আসে ৪ হাজার ৯৫৭.৫৪ ডলারে।
ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার্স বাজারে স্বর্ণের দাম ৪.৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৮১.৭০ ডলারে।
এত বড় পতনের পরও মাসিক হিসাবে স্বর্ণের দাম ১৯৮২ সালের পর সবচেয়ে বড় উত্থানের পথে রয়েছে। চলতি মাসে স্বর্ণের দাম ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং টানা ষষ্ঠ মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৪.৮২ ডলারে পৌঁছায়।
এক্সএস ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক রানিয়া গুলে বলেন,“দ্রুত উত্থানের পর এটিকে শক্তিশালী সংশোধন ও লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা হিসেবে দেখছি। অনেক বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান তাদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করে ঝুঁকি কমিয়েছে।”
ডলার শক্তিশালী হওয়ার পেছনে কেভিন ওয়ার্শের মনোনয়ন বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি ‘কঠোর নীতি সমর্থক’ হিসেবে পরিচিত। ডলার শক্তিশালী হলে ডলারে মূল্যায়িত স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
ভারতে ভৌত স্বর্ণের প্রিমিয়াম এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। সম্ভাব্য আমদানি শুল্ক বাড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগ চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই কারণে চীনেও স্বর্ণের বিনিয়োগ ও গহনার চাহিদা বাড়ায় প্রিমিয়াম লাফিয়েছে।
বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, “স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে ২০২৬ সালে গড় দাম দাঁড়াতে পারে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার, আর বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪০০ ডলার ছুঁতে পারে।”
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও বড় পতন দেখা গেছে— রুপা, ১৪.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৯৯.৭৯ ডলার দিনের সর্বনিম্ন ৯৫.৭৯ ডলার, আগের দিন রেকর্ড ১২১.৬৪ ডলার। প্লাটিনাম, ১২.৬ শতাংশ কমে ২ হাজার ২৯৮.৭৬ ডলা , সোমবার রেকর্ড ২ হাজার ৯১৮.৮০ ডলার, প্যালাডিয়াম: ৯.৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮১৯.৭৫ ডলার
রুপার দরপতন প্রসঙ্গে রস নরম্যান বলেন,“মৌলিক কারণ থাকলেও বাজারে জল্পনাভিত্তিক অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, যা এখন ঝরে পড়ছে।”
সূত্র: রয়টার্স
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।