গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় স্ত্রীসহ কারাগারে বিমানের এমডি সাফিকুর রহমান
আইন আদালত ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৭
শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এরআগে গত রোববার গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। পরদিন সোমবার তাদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোমের মিয়া আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাজু আহমেদ জামিন নামঞ্জুর করে চারজনকেই জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথি, এবং বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, সাফিকুর রহমান একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং অধিকাংশ সময় সরকারি কাজে বাইরে থাকেন। তার দাবি, এসব ঘটনার সঙ্গে এমডির কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং কী ঘটেছে, সে সম্পর্কেও তিনি অবগত ছিলেন না। পাশাপাশি তিনি বলেন, এমডির স্ত্রী একজন অসুস্থ ও বয়স্ক নারী এবং ঘটনার বিষয়ে তারাও কিছু জানতেন না।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার বলেন, জীবিকার তাগিদে ১১ বছরের শিশুটিকে কাজে পাঠানো হলেও ওই বাসায় সে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ।
নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটির বাবা, হোটেলকর্মী গোলাম মোস্তফা, রোববার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত সাফিকুর রহমানের বাসায় কাজের জন্য একজন শিশু গৃহকর্মী খোঁজা হচ্ছিল। বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। মেয়ের ভবিষ্যৎ বিয়ে ও অন্যান্য খরচ বহনের আশ্বাস পেয়ে গত বছরের জুনে তিনি মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২ নভেম্বর সর্বশেষ মেয়ের সঙ্গে দেখা হলেও এরপর আর তাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে জানান, শিশুটি অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে হবে। সেদিন সন্ধ্যার দিকে মেয়েকে বুঝে নেওয়ার সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বাবা। শিশুটি ঠিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না।
পরবর্তীতে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটি জানায়, ওই বাসায় তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছেঁকা দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।