ডিটক্স ডায়েট নয়, এই সাধারণ অভ্যাসেই থাকবে শরীর সুস্থ ও পরিষ্কার
লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৪৪
শরীরের নিজস্ব ব্যবস্থা দিনে রাতেই ক্ষতিকর পদার্থ ও বর্জ্য দূর করে। তবে উৎসব বা অতিরিক্ত খাবারের সময় অনেকেই মনে করেন ডিটক্স করা প্রয়োজন। বাজারে জুস ফাস্ট, ডিটক্স ডায়েট বা বিশেষ পানীয়ের প্রচলন থাকলেও গবেষণায় দেখা গেছে—এসবের অধিকাংশের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই শরীর পরিষ্কার রাখে। তবে কিছু সহজ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস শরীরকে আরও ভালোভাবে সহায়তা করতে পারে।
১. বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খান
আঁশ (ফাইবার) পেট পরিষ্কার রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, অন্ত্রে ক্ষতিকর পদার্থ জমা কমায়, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে ও কিছু রোগের ঝুঁকি কমায়।
খাবারের উদাহরণ: শাকসবজি, ডাল, ছোলা, মসুর, মটরশুঁটি, ফল (আপেল, পেয়ারা), ওটস, লাল চাল, আটা রুটি, বাদাম ও বীজ।
২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পানি শরীরের বর্জ্য দূর করার প্রধান উপাদান। কম পানি পান করলে বর্জ্য জমে, কিডনির ক্ষতি ও পাথরের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণভাবে ১.৫–২ লিটার পানি যথেষ্ট।
৩. ফুসফুসকে সুস্থ রাখুন
ফুসফুস পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো—
- ধূমপান ও ভ্যাপিং বন্ধ করা
- ধোঁয়া ও দূষণ এড়িয়ে চলা
- হালকা ব্যায়াম (হাঁটা, সাইকেল, সাঁতার)
- ঘরের ভেতরে অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার কমানো
৪. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
ঘুমের সময় মস্তিষ্ক নিজেকে পরিষ্কার করে, ক্ষতিকর প্রোটিন ও বর্জ্য দূর করে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত ৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
ঘাম দিয়ে শরীর ‘ডিটক্স’ হয় না, তবে ব্যায়াম লিভার ও কিডনিতে রক্ত চলাচল বাড়ায়, চর্বি কমায় এবং বর্জ্য পরিশোধনের ক্ষমতা বাড়ায়। হালকা দৌড়, হাঁটা, সাইকেল, সাঁতার বা গৃহস্থালি কাজও সহায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যয়বহুল ডায়েট বা চমকপ্রদ পণ্যের প্রয়োজন নেই। আঁশযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত পানি, পরিষ্কার বাতাস, ভালো ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়ামই শরীরকে সুস্থ ও পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। স্বল্পমেয়াদি পরিবর্তনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই প্রকৃত সুস্থতার চাবিকাঠি।
সূত্র: BBC
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।