কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে কিছু খুচরা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেল মজুদ রেখে গোপনে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কয়েকটি মিনি তেল পাম্প ও দোকানে তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। মিনি তেল পাম্পের মালিক কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে তেল বিক্রি না করে গোপনে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে স্বাভাবিক মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা।
স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক ও ক্রেতা জানান, বাজারে বোতলজাত পেট্রোল ও ডিজেল প্রতি লিটার প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, রাজীবপুর উপজেলায় কোনো পেট্রোল পাম্প না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বাজারের দোকান থেকে বোতলজাত তেল কিনে থাকেন। অনেক সময় বিক্রেতারা মজুদ থাকা সত্ত্বেও ক্রেতাদের বলেন তেল নেই। পরে সেই একই তেল গোপনে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্থিরতা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। চলমান ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি স্থানীয় সিন্ডিকেটের কারণেও রাজীবপুরে তেলের চড়া দাম ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের দৈনন্দিন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম. শামিম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।