ট্যাপের এক গ্লাস স্বচ্ছ পানির মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। খালি চোখে দেখা না গেলেও এসব কণা বিশ্বজুড়ে পানি দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। সামুদ্রিক গভীরতা থেকে শুরু করে মানবদেহ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এসব ক্ষুদ্র দূষক।
তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে নতুন সম্ভাবনা। এতে বলা হয়েছে, পরিচিত শজনে গাছের বীজ ব্যবহার করে পানির ভেতর থাকা অধিকাংশ অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা দূর করা সম্ভব হতে পারে।
গবেষণার ফল কী বলছে
যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিলের একদল গবেষকের দীর্ঘ পরীক্ষায় দেখা যায়, শজনের বীজ পানির ভেতরে থাকা দূষিত কণাগুলোকে একত্র করে ফেলতে পারে। ফলে সেগুলো ভারী হয়ে নিচে জমে যায় এবং সহজেই আলাদা করা যায়।
গবেষণায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট ধরনের অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকযুক্ত পানিতে এই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করলে প্রায় ৯৮ শতাংশের বেশি কণা অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।
কীভাবে কাজ করে এই প্রক্রিয়া
শজনের বীজে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান পানির ভেতরে একটি আঠালো প্রভাব তৈরি করে। এতে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বড় দলে পরিণত হয় এবং পরে নিচে নেমে যায়। এরপর সাধারণ ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে পানি পরিষ্কার করা যায়।
গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত পানি পরিশোধন উপাদানের মতোই কার্যকর।
পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে সম্ভাবনা
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রাকৃতিক পদ্ধতির বড় সুবিধা হলো এটি পরিবেশবান্ধব এবং সহজলভ্য। কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য তৈরি না করেই পানি পরিশোধন করা সম্ভব হতে পারে।
তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বীজ দিয়ে সীমিত পানি পরিশোধন করা যায়। ফলে বড় শহরের বিপুল পরিমাণ পানির জন্য এটি এখনো বড় আকারে ব্যবহার উপযোগী নয়।
ভবিষ্যৎ গবেষণা
গবেষকেরা এখন আরও পরীক্ষা করছেন, এই পদ্ধতিকে কীভাবে বড় পরিসরে ব্যবহারযোগ্য করা যায়। পাশাপাশি আরও সূক্ষ্ম কণা অপসারণে এর কার্যকারিতা নিয়েও চলছে গবেষণা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমবর্ধমান পানি দূষণের এই সময়ে শজনের বীজের মতো প্রাকৃতিক সমাধান ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।