‘ভারতকে কেউ বিশ্বাস করে না’- পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযোগ
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মে ২০২৬, ১৮:৫৪
ভারতকে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, “সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তোমাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।”
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলনটি ‘মারকা-ই-হক’ নামে একটি সামরিক অভিযানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়। সেখানে পাকিস্তান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সেনা মুখপাত্র দাবি করেন, গত এক বছরে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করেছে এবং প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করার যে অভিযোগ ভারত করে আসছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার দাবি, “কোনো প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দোষারোপ করা হয়েছে।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, পেহেলগাম হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ কোথায়। তার ভাষায়, এসব অভিযোগের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেখানে সামরিক বাহিনী রাজনীতিকরণ হয়েছে এবং রাজনীতি সামরিকীকরণের দিকে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এবং সেখানে জনসংখ্যার কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের অভ্যন্তরে সংখ্যালঘুদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে এবং এসব অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরাতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে এবং পাকিস্তান বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতার কথাও উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এসব ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর বিশ্ব এখন বুঝতে পারছে, ভারত কীভাবে তথ্যযুদ্ধ পরিচালনা করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।