শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

হার্ট অ্যাটাকে সিসিইউতে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৫২

সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান হার্ট অ্যাটাক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মুগ্ধর বড় ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।

পোস্টে তিনি লেখেন, “রাত দুইটা বাজে। আমি হাসপাতালে আব্বুর বিছানার পাশে বসে আছি। গতকাল আমাদের বাবা একটি মেজর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। উনি এখন সিসিইউতে।” তিনি আরও জানান, আশ্চর্যের বিষয় হলো—এত বড় হার্ট অ্যাটাকের পরও তার বাবা কোনো ধরনের শারীরিক ব্যথা অনুভব করেননি। চিকিৎসকদের ধারণা, গত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো সময় এই অ্যাটাকটি হয়ে থাকতে পারে।

স্নিগ্ধ লেখেন, মুগ্ধকে হারানোর পর থেকে যেন তার বাবার কাছে আর কোনো ব্যথাই প্রকৃত ব্যথা বলে মনে হয় না। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা মীর মোস্তাফিজুর রহমানকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এ সময়ের মধ্যে আরেকটি হার্ট অ্যাটাক হলে তা জীবননাশের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এমন সংকটাপন্ন অবস্থাতেও মীর মোস্তাফিজুর রহমানের মানবিক দিকের কথা তুলে ধরেন স্নিগ্ধ। তিনি জানান, সিসিইউতে থেকেও তার বাবা একজন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর কেমোথেরাপির জন্য দেওয়া সহায়তার কথা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন। স্নিগ্ধ লেখেন, “আপনারা যে মানবিক মুগ্ধকে দেখেছেন, সে ছিল পুরোপুরি আব্বুরই প্রতিচ্ছবি।”

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে স্নিগ্ধ বলেন, একদিকে বাবার এই সংকটাপন্ন অবস্থা, অন্যদিকে শহীদ হাদির বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য তাকে ভীষণ অসহায় করে তুলেছে।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, সারা দিন বাবার মুখে মুগ্ধর কথাই ছিল। জন্মের পর প্রথম কোলে নেওয়ার স্মৃতি বলতে গিয়ে তার চোখে পানি চলে আসে। এমন অবস্থাতেও তিনি সন্তানদের কখনো হার না মানার শিক্ষা দেন এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

শেষে একজন বীর শহীদের বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top