রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে, কীভাবে হবে? যা জানা গেল
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৭
বাংলাদেশের নতুন সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন, এরপর প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এখন রাজনীতিক ও বিশ্লেষকরা এক প্রশ্নে মনোযোগ দিয়েছেন- নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন হবে কি না।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তার বর্তমান মেয়াদ চলবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে সংবিধান অনুযায়ী, তিনি পদত্যাগ না করা বা অভিশংসন না হওয়া পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্ভব নয়। আইনজীবী ও সংবিধান বিশ্লেষক কাজী জাহেদ ইকবাল মনে করান, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংসদ নির্বাচনের জন্য কার্যক্রম শুরু করবে।
সাহাবুদ্দিন নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর পদত্যাগ করতে আগ্রহী। তবে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে, বিশেষ করে যদি তিনি শপথগ্রহণের আগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কিভাবে হয়-
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। কেউ দুইবারের বেশি এই পদে থাকতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার তিনটি কারণ রয়েছে: মেয়াদ শেষ, পদত্যাগ এবং অভিশংসন।
পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই ৩৫ বছরের বেশি বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।
১৯৯১ সালের আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন সরাসরি ভোটে। তবে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে আসার পর বর্তমান প্রক্রিয়া চালু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করবেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, পদ শূন্য হওয়ার ৬০–৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে। একক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন নেই।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারসাম্য-
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন এবং প্রধানত প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক সংকট বা নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন, যেমন সংসদ ভেঙে দিলে একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
জুলাই সনদে প্রস্তাব এসেছে, যাতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়। উদাহরণস্বরূপ, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নিয়োগে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে এটি কার্যকর হওয়ার জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন।
নতুন রাষ্ট্রপতির সম্ভাবনা-
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। তবে প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে তা খুব সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত, পদত্যাগ বা অভিশংসনের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, তাই মো. সাহাবুদ্দিনই পদে থাকবেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।