মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য: প্রধানমন্ত্রী

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩৬

ছবি: সংগৃহীত

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানী টেলিফোন ও টেলিযোগাযোগ সংস্থার খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় পরিবার কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়ন করতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে। সরকার আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে চার কোটি পরিবারের হাতে পরিবার কার্ড পৌঁছে দেবে।

এ সময় তিনি জানান, আগামী মাসের মধ্যে কৃষক কার্ড কার্যক্রমও চালু করা হবে। পাশাপাশি ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রাথমিকভাবে ঢাকার কড়াইল ও ভাসানটেক বাগানবাড়ি বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরসহ দেশের মোট চৌদ্দটি স্থানে এ কর্মসূচি চালু হচ্ছে। এর আওতায় নির্বাচিত নারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। তবে এ সময় তারা অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। পরিবারের অন্য সদস্য কেউ ভাতা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে।

প্রায়োগিক প্রকল্প হিসেবে দেশের তেরোটি জেলার তেরোটি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের পনেরোটি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক বাগানবাড়ি বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাসন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, গৃহস্থালিসামগ্রী, প্রবাসী আয়সহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে নারীপ্রধান ৬৭ হাজার ৮৫৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী হওয়ার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারের নারীপ্রধানকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top