আজ শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৪
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। নতুন এই সংসদে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি।
প্রথম অধিবেশনে জুলাই আন্দোলনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে দুই হাজার চব্বিশ সালের চার আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত গোলাম নাফিজের রিকশাচালকসহ চার নিহত পরিবারের সদস্যদের অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রীতি অনুযায়ী পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। স্পিকার নির্বাচিত না হওয়ায় সরকারি দলের একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য সভাপতিত্ব করে অধিবেশন শুরু করবেন।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রথম দিনের কার্যসূচিতে মোট সাতটি বিষয় রয়েছে। শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন স্পিকার অধিবেশন পরিচালনা করবেন। এরপর সংসদীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়াত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলোও প্রথম অধিবেশনেই সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধানের তিরানব্বই অনুচ্ছেদের দুই উপধারা অনুযায়ী আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান একশ তেত্রিশটি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন। এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন, সংশোধন বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ। এর মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িতদের ফৌজদারি দায়মুক্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ কয়েকটি অধ্যাদেশ হুবহু অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
পরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের দুই হাজার চব্বিশ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও গঠন করা হবে।
সবশেষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংসদে উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। তার ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। এভাবেই প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হবে। প্রায় এক মাস চলবে প্রথম অধিবেশন।
তবে রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। তাদের দাবি, রাষ্ট্রপতির এমন ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই। তারা জানিয়েছেন, সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চায় জামায়াতে ইসলামী এবং প্রয়োজন না হলে কোনো বিষয় আদালতে নেওয়া হবে না।
বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই। ডেপুটি স্পিকার প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করবে। সব বিষয়ে অকারণে বিরোধিতা করা হবে না, আবার না বুঝে সমর্থনও দেওয়া হবে না।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।