শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

পাঠ্যবই ছাপাকাজে লোপাট কোটি কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৩:৫৪

সংগৃহীত

ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের ছাপাকাজে প্রতিনিয়ত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি অসাধু চক্র। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে শুধু বই ছাপার কাজে তারা ৬৫৮ কোটি ৮৫ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৫ টাকা লোপাট করেছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিন্ডিকেটের মূল কৌশল হলো টেন্ডারের প্রাক্কলিত দাম ফাঁস করে লট ভাগাভাগি, কাগজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি এবং আর্টকার্ড আমদানি করে অতিরিক্ত টাকা হাতানো। তারা কোন প্রেস কোন কাজ পাবে এবং কাগজ কার কাছে যাবে তাও নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্ণফুলী আর্ট প্রেস, লেটার এন কালার, প্রমা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং, আনন্দ প্রিন্টার্স, অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেয়। এনসিটিবির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রেস মালিকদের কাছে দর ফাঁসের মাধ্যমে সুবিধা দেন।

চক্রের সদস্যরা গোপন বৈঠকে লট ভাগাভাগি ও অতিরিক্ত কার্যাদেশ নিশ্চিত করে। তারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতার মাধ্যমে দরপত্র দাখিল করে সরকারের বাজেটের অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেন।

দেশে বর্তমানে ১১৯টি পেপার মিল রয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র কয়েকটি মিল এনসিটিবির স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাগজ সরবরাহ করতে সক্ষম। অন্যান্যরা কম মানের কাগজ দিয়ে বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করে। পাঠ্যবইয়ের জন্য ব্যবহৃত ২৩০ জিএসএম আর্টকার্ডও মূলত আমদানিনির্ভর। সিন্ডিকেটের কারণে এর দাম কৃত্রিমভাবে বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে লেটার এন কালার লিমিটেডের নির্বাহী রাশেদ হোসাইন দাবি করেছেন, তার প্রতিষ্ঠান টেন্ডার নিয়ম মেনে সম্পন্ন করে, কোনো সিন্ডিকেট বা দর বাড়ানো হয় না। প্রমা প্রেসের মালিক মামুন হোসেন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top