শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

নাগরিক দুর্বল হলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৪:১৪

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও রাষ্ট্র সমাজের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানুষের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পারে, তবে ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা, উদারতা মানবিক মূল্যবোধ অর্জন ছাড়া প্রকৃত মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে না। এজন্য ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রধানমন্ত্রী হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, "যার আমানতদারি নেই, যার কাছে নিরাপত্তা নেই, সে প্রকৃত ইমানদার নয়। যার ওয়াদা ঠিক নেই, তার কোনো ধর্মই নেই।" তিনি আরও বলেন, প্রতিহিংসা সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে ধর্মের মানবিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে এবং এগুলোকে ধর্মীয়, সামাজিক নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি স্মরণ করান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় দেশে ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু হয়েছিল এবং পরে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময় ‘মসজিদভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারও ইমাম মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের পাশাপাশি তাদের দক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে। তিনি জানান, কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে দেশের ৪,৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬,৯৯২ জন ধর্মীয় নেতা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ধর্মীয় নেতাদেরও এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি জেলার আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান, সবাই মিলে আমরা ভালো থাকব। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে।"

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ রাষ্ট্র সমাজ গড়ে তোলা।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top