বৃহঃস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২

বাসডুবিতে প্রাণ গেল মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ৩ শিক্ষার্থীর

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৬

ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৭ জন পুরুষ ও ৭ জন শিশু রয়েছেন। শিশুদের মধ্যে ৩ জন মেয়ে ও ৪ জন ছেলে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান জানান, ২২ জনের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী জোহরা অন্তি এবং তার স্বামী সৌম্য। এছাড়া বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি-এর শিক্ষার্থী সাইফ আহমেদ ও তার সহধর্মিণীও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, সিআরপির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএইচপিআই-এর ফিজিওথেরাপি বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সোমা এবং তাদের সাত মাস বয়সী সন্তানও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নুরুজ্জামান তার মেয়েকে নদী দেখানোর জন্য বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনা ঘটে, চোখের সামনে তার স্ত্রী ও সন্তানসহ বাস তলিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান ও তার ভাগ্নের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে তার মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং বড় বোনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বুধবার রাত ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দিয়ে ক্রেনের সাহায্যে বাস টানার কাজ শুরু হয়। বাসের সামনের অংশ ইতিমধ্যেই পানির ওপরে তোলা হয়েছে। ভেতরে থাকা যাত্রীদের স্কুলব্যাগ, জুতা ও ব্যক্তিগত সামগ্রী পানিতে ভেসে উঠেছে। দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি পরিস্থিতির জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার জানান, বাসে থাকা আরও প্রায় ৪০ জন যাত্রী এখনও নিখোঁজ থাকতে পারেন। ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন, তবে মাত্র সাতজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। বেঁচে যাওয়া যাত্রী আব্দুল আজিজুল জানান, তিনি নিজে বেঁচে গেছেন, তবে তার স্ত্রী ও সন্তান এখনও নিখোঁজ।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top