শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

বেসরকারি খাতই অর্থনীতির লাইফলাইন,সংকট মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের আহ্বান

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৭

সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো বেসরকারি খাত—এমন মত তুলে ধরে বলা হয়েছে, পরিবেশ যেমন জীবন রক্ষা করে, তেমনি বেসরকারি খাত দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখে ও শক্তিশালী করে। এই খাত দুর্বল হলে পুরো অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন উদাহরণ টেনে বলা হয়, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘ওবামানোমিকস’ নীতির মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সহায়তা দিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করেছিলেন। প্রায় ৭৮৭ বিলিয়ন ডলারের উদ্দীপনা প্যাকেজ, করছাড়, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং গাড়ি শিল্পে বেলআউট কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি হাজারো কর্মসংস্থান রক্ষা করেন।

একইভাবে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশও সংকটকালে বেসরকারি খাতকে ভর্তুকি ও সহায়তার মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছে। এ থেকেই অর্থনীতিবিদদের অভিমত—মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী রাখাই টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৩ শতাংশই বেসরকারি খাতে তৈরি হয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং হয়রানিমূলক পরিস্থিতির কারণে এই খাত প্রায়ই চাপের মুখে পড়ে, যা সরাসরি অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো ছাড়া বিকল্প নেই। কলকারখানা সচল রাখা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যাংকিং ও ঋণ ব্যবস্থার সহজীকরণ এবং উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নীতিমালা সংস্কার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আর্থিক খাতকে গতিশীল করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলে মত দেওয়া হয়।

সবশেষে বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার, রাজনৈতিক শক্তি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করাই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের প্রধান শর্ত।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top