সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারই স্বাস্থ্য খাতের বড় সংকট: প্রতিমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৪
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রকৃত সংকট সম্পদের অভাব নয়, বরং বিদ্যমান সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার ও অব্যবস্থাপনা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গুলশানে “নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা: গবেষণা থেকে নীতি নির্ধারণ” শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে যেসব সম্পদ রয়েছে তার বড় একটি অংশই পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে এসব সম্পদ অপচয় হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রায়ই বলা হয় স্বাস্থ্য খাতে সম্পদ কম, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যা আছে তা-ই আমরা দক্ষভাবে ব্যবহার করতে পারছি না। সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো তাদের সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে পারছে না। সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কোনো অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই বিদ্যমান সম্পদ দিয়ে সেবা প্রায় দুই-চতুর্থাংশের বেশি বাড়ানো সম্ভব।
ঢাকার নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বৈষম্য নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঢাকার ভেতরে ছোট ছোট এলাকার মধ্যেও স্বাস্থ্যসেবার বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে, যা সত্যিই বিস্ময়কর। ওয়ার্ডভিত্তিক দারিদ্র্য মানচিত্র এবং স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এসব তথ্য নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য মানে শুধু রোগমুক্ত থাকা নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক স্বস্তিও এর অংশ। হাসপাতালের পরিবেশ ও আচরণ যদি রোগীর জন্য স্বস্তিদায়ক না হয়, তবে চিকিৎসা পুরোপুরি কার্যকর হয় না। জনগণের প্রকৃত চাহিদা বুঝে তা যদি সরকারি নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে একটি জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের গবেষণার ফলাফল অবশ্যই নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। মন্ত্রণালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।
সেমিনারে ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং কোরাস নামে একটি স্বাস্থ্য গবেষণা উদ্যোগ যৌথভাবে আয়োজন করে। সেখানে নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, তথ্যভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ঢাকার নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়নে কৌশলগত ক্রয় এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।