শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক, আজ মহান মে দিবস
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ মে ২০২৬, ০৯:৩০
আজ মহান মে দিবস। বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায় ও সংগ্রামের স্বীকৃতির দিন হিসেবে প্রতিবছর ১ মে পালিত হয় এই দিবস। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও মর্যাদার প্রতি সম্মান জানাতে দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়ে থাকে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। প্রতি বছর এ দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষিত থাকলেও এ বছর শুক্রবার হওয়ায় আলাদা করে ছুটির প্রয়োজন হয়নি। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নবপ্রভাত’।
দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে দেশের পাশাপাশি বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য সময়োপযোগী এবং শ্রমিক কল্যাণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতি এগিয়ে যায়। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমবান্ধব নীতি গ্রহণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের দেশের উন্নয়নের মূল শক্তি হিসেবে দেখতেন এবং তাদের কল্যাণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সৃষ্টির মাধ্যমে প্রবাসী আয়ের ভিত্তি গড়ে তোলার কৃতিত্বও তার।
মে দিবসের ইতিহাস ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। সে সময় ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণে কয়েকজন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই শ্রমিক অধিকারের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে মে দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং ১৮৯১ সালে তা গৃহীত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ১ মে বিশ্বব্যাপী শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, র্যালি, সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
এদিকে, রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আজ বড় সমাবেশের আয়োজন করেছে। এতে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। জুমার নামাজের পর সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সারা দেশেও দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা সংগঠনগুলোও দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পৃথকভাবে সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান ও আলোচনা প্রচার করা হচ্ছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।