রবিবার, ৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

এক বিশ্বাসঘাতকের জবানবন্দি

জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন মাসুদ উদ্দিন

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ মে ২০২৬, ১১:৩৪

সংগৃহীত

এক-এগারো পর্বকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি সে সময়কার রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও নিজের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

সূত্রগুলো জানায়, রাজনীতি থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জিয়া পরিবারকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এক-এগারোর সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও প্রতিশোধের মানসিকতা থেকেও তিনি এই পরিকল্পনায় যুক্ত হন বলে উল্লেখ করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, তারেক রহমান-কে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের পরিকল্পনাও তার ছিল। এর মাধ্যমে খালেদা জিয়া-র ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বিদেশে যেতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পনাটি সফল হয়নি।

এছাড়া, এক-এগারোর পর সেনাপ্রধান হওয়ার প্রত্যাশা ছিল বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। সে সময়কার সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ ক্ষমতা ছাড়লে নিজে ওই পদে বসবেন—এমন পরিকল্পনা ছিল বলে জানা যায়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অবসরের পর তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়েছেন বলে স্বীকার করেছেন, যার পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার সম্পদ থাকার কথাও জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির ঘটনাকে এক-এগারো নামে পরিচিত, যখন দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয় ফখরুদ্দীন আহমদ-এর নেতৃত্বে। সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল, যার মাধ্যমে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে লেখক মহিউদ্দিন আহমদ তার গ্রন্থ এক-এগারো-এ উল্লেখ করেছেন, প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন অন্যতম ছিলেন।

বর্তমানে একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে আছেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তদন্তকারীরা বলছেন, তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top