মুসলিম ঐক্য ও প্রধান শত্রুর সনাক্তকরণ: যুগসন্ধিকালের বাস্তবতা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৮
পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৮০০ কোটি মানুষ বসবাস করছে। এর মধ্যে ১৫০ কোটি মুসলমান। এই সংখ্যা শুধুমাত্র মৌলবাদী বা নিয়মিত প্র্যাক্টিসিং মুসলিম নয়, বরং শিয়া-সুন্নি, খারেজি-ওয়াহাবি, মৌলবাদী-মডারেট, ফাসেক-ফাজের সালাফি-আহলে হাদিস, দেওবন্দি ও অন্যান্য ঘরানার মুসলিমদের মিলিত সংখ্যাই এটি।
বিশ্বে সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি অনুসারী আছে খ্রিস্ট ধর্মের। ইসলামের অনুসারী সংখ্যা দ্বিতীয় স্থানে। স্বাধীন দেশ প্রায় ২০০, কিন্তু একটিও পূর্ণাঙ্গ ইসলামি রাষ্ট্র নেই। মাত্র ৫০টি দেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, অর্থাৎ মোট জনগোষ্ঠীর ৫০% এর বেশি মুসলিম। এই দেশগুলোর অধিকাংশই আয়তনে ক্ষুদ্র। খেলাফতের সময় এগুলো ছিল একেকটি গ্রামের মতো।
তবে বিশ্বের অমুসলিম জনগোষ্ঠী একত্রিতভাবে ইসলামবিরোধী। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, আরাকান, উইঘুর—মুসলমানরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আক্রান্ত।
ভেতরের সংঘাত বনাম আসল শত্রু
অদ্ভুত হলেও সত্য, এই পরিস্থিতিতেও মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে বিভাজন, কাঁদাছুঁড়ি, সমালোচনা, দলবাজি, অ্যাটাক ও কাউন্টার অ্যাটাকে ব্যস্ত। শত্রুর অভাব নেই। ঘরের মানুষকে পর করার চেষ্টা কেন?
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“গোটা কুফুরি শক্তি এক জাতিভুক্ত।”
শত্রুর মূল চিহ্ন হলো কাফের ও মুশরিকদের সাথে বিরোধ। মতভিন্ন মুসলিমদের মধ্যে শত্রুতা থাকা উচিৎ নয়।
কিভাবে আসল শত্রু চিহ্নিত করবেন?
ইসলামের বিপরীত হলো কুফুর। তাওহিদের বিপরীত হলো শিরিক। যে কুফুর বা শিরিকের শিবিরে আছে, তারাই প্রকৃত শত্রু। যারা কাফের বা মুশরিক নয়, তাদের সাথে মতভিন্নতা থাকলেও শত্রুতা নয়।
শক্তি সংরক্ষণ ও ঐক্যের গুরুত্ব
যখন আপনি প্রধান শত্রু চিহ্নিত করতে পারবেন, তখন শক্তি, শত্রুতা ও রিসোর্স শুধুমাত্র সেই শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে।
সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি রহ. বলতেন:
“আমি আমার যাবতীয় শক্তি ও শত্রুতা সঞ্চয় করে রাখতে চাই ক্রুসেডারদের জন্য।”
তাই তিনি কোনো মুসলিম ফেরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতেন না।
যদি মূল শত্রু নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হই, ফলাফল হবে ঘরের ভেতরের সংঘাত। জাহেলি যুগের কবিতায় যেমন বলা হয়েছে:
“শত্রু না থাকলে স্বগোত্রীয় ভাইদেরকেই দুটি পক্ষ বানিয়ে যুদ্ধ করতাম।”যুগসন্ধিকালের দিকনির্দেশনা
বর্তমান সময়ে মুসলিম বিশ্বের জন্য প্রয়োজন সুচিন্তিত ও পরিকল্পিত পথচলা।
-
ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধে কর্মপন্থা গ্রহণ।
-
ধর্মীয় উদারতা, মানবকল্যাণ, গণমানুষের সমস্যা-সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
-
৫০ বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং ভিশন ঘোষণা।
-
মুসলিমদের মধ্যে ইসলামি জাগরণ সৃষ্টি।
-
আদর্শ নেতৃত্বের অভাব পূরণ, ফাতহে মুবিনের পরিবেশ তৈরি।
ঘরানার সীমায় আটকে না থেকে, মানবসেবা ও গণমানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হোন।
-
ভাষণ সর্বস্বতা নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ।
-
ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিন।
-
মানুষকে কাছে টানুন, ভালোবাসা দিয়ে মন জয় করুন।
-
ভুল ও বিচ্যুতি ছোটখাটো বিষয় হিসেবে দেখুন, বৈচিত্রের মাঝে ঐক্য খুঁজুন।
“দূরদৃষ্টিসম্পন্ন দৃষ্টি রাখুন, নিজের শক্তি জানুন এবং সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নিন।”
লেখক: মুহাদ্দিস, মাদরাসা দারুল রাশাদ, মিরপুর; এমফিল গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।