বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:৩৯
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পূর্বঘোষিতভাবে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলসহ প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন।
এ সময় মঞ্চে সমান সারিতে চেয়ার বসানো নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
এ সময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অভিযোগ করে বলেন, “জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছে। পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে তারা হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
অন্যদিকে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বসাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, “পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।